সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে বিশিষ্ট নাগরিকদের অভিমত
দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়বে
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল হওয়ায় দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়বে। আরও তীব্র হবে প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে বিরাজমান আস্থাহীনতা ও অবিশ্বাস। বিষয়টি আগামী সংসদ নির্বাচনকেও হুমকির মুখে ঠেলে দেবে। এই অভিমত দেশের বিশিষ্ট নাগরিকদের।তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্ত করে গত ৩০ জুন সংসদে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বিল পাস হয়েছে। এতে সংবিধানের প্রস্তাবনা ও মৌলিক বিষয়গুলো সংশোধনের অযোগ্য করা হয়েছে।
বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সভাপতি ড. কামাল হোসেন এ বিষয়ে গতকাল শুক্রবার প্রথম আলোকে বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার মাধ্যমে সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের নিশ্চয়তা ছিল। আগামীতে রাজনৈতিক সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে সেই নির্বাচনে বিরোধী দল অংশ নেবে কি না, আর নিলেও সেই নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।
কামাল হোসেন আরও বলেন, ১৯৯৪ সালের মাগুরা উপনির্বাচন এবং ’৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির একতরফা নির্বাচনের অগ্রহণযোগ্যতা থেকেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ধারণা আসে।
গণতন্ত্রকে আরও সুসংহত করে এই ব্যবস্থা বাতিলের চিন্তাভাবনা করা যেত।
গণতন্ত্রকে আরও সুসংহত করে এই ব্যবস্থা বাতিলের চিন্তাভাবনা করা যেত।
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সভাপতি অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ বলেন, এই সংশোধনীর মাধ্যমে সরকার সংবিধানকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে।যে মামলার রায়ে ত্রয়োদশ সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাকে অসাংবিধানিক বলা হয়েছে, সেই মামলার চূড়ান্ত রায় এখনো প্রকাশিত হয়নি। সেই পর্যন্ত অপেক্ষা না করেই সরকার সংবিধান সংশোধন করে ফেলল। এটা দুঃখজনক।
হারুন আল রশীদ
প্রথম আলো
তারিখ: ০২-০৭-২০১১
জাতীয় পার্টি নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেবে: এরশাদ
এ লক্ষ্যে জাতীয় পার্টি কাজ শুরু করেছে। আগামী সংসদ নির্বাচনে সব আসনে প্রার্থী দেওয়ার জন্য তালিকা তৈরি শুরু হবে। আজ শনিবার জাতীয় পার্টির বনানীর কার্যালয়ে এক যোগদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে এলডিপি নেতা নাজিমউদ্দিনের নেতৃত্বে শতাধিক নেতা-কর্মী জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন।তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল হওয়াকে স্বাগত জানিয়ে এরশাদ বলেন, অনির্বাচিত সরকারের চেয়ে নির্বাচিত সরকারের অধীনে নির্বাচন অনেক সম্মানজনক, যেকোনো রাজনীতিবিদের জন্য।
প্রথম আলো
তারিখ: ০২-০৭-২০১১
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ড. এটিএম শামসুল হুদা বলিয়াছেন যে, চলমান ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে সাড়ে তিনশত কোটি টাকা খরচ করিয়াও খুনোখুনি ঠেকানো সম্ভব হয় নাই। প্রশাসন ও ভোটারদের চরিত্রের বদল না হইলে কেবল আইন করিয়া কিংবা টাকা খরচের মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নয়ন সম্ভব নয় বলিয়াও মন্তব্য করিয়াছেন তিনি।
সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ধাপে গত ২৯শে মার্চ হইতে ৩রা এপ্রিল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ৫ শত ৬০টি ইউপি নির্বাচনে যেইখানে নিহতের সংখ্যা ছিল মাত্র ৩ জন, সেইখানে দ্বিতীয় ধাপের চলমান নির্বাচনে ইতিমধ্যে ৫০ জন নিহত হইয়াছে। আহতের সংখ্যা ৭ সহস্রাধিক। প্রথম ধাপে নির্বাচনী সংঘর্ষের সংখ্যা মাত্র ৫০টিতে সীমিত থাকিলেও ইতিমধ্যে তাহা দুই হাজারের কাছাকাছি পৌঁছিয়াছে। সমগ্র ইউপি নির্বাচন পরিচালনায় যেইখানে ১৪৭ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হইয়াছে, সেইখানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পিছনেই ব্যয় হইতেছে প্রায় ২ শত কোটি টাকা।
শনি, ২ জুলাই ২০১১,
সম্পাদকীয়
ইত্তেফাক
সম্পাদকীয়
ইত্তেফাক

